
২৫ অগস্ট ২০২৪- মরণোত্তর চক্ষু সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন

২৫ অগস্ট,২০২৪ তারিখটি চন্দননগরের বুকে একটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল।
জাতীয় নেত্রদান পক্ষের (২৫ অগস্ট – ৮ সেপ্টেম্বর) সূচনার দিন বিকেলেই ‘সংবেদ চন্দননগর চক্ষু সংগ্রহ কেন্দ্র’টির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হল ‘খলিসানী পাঠাগার’ এর সম্মেলন কক্ষে।কেন্দ্রটির কার্যালয় স্থাপিত হয়েছে খলিসানীর পূর্ব বিশালাক্ষীতলায়।
চক্ষুদান বিষয়ক একটি থিম সঙ্গীত দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
‘বেঁচে থেকে আমি রক্ত দিয়েছি/মৃত্যুতে দেব চোখ/সেই চোখ দিয়ে আকাশ দেখবে/ আমারই দেশের লোক।’
গানের প্রথম দুটি পংক্তিতেই চক্ষুদানের অঙ্গীকারটি,সমবেত প্রার্থনা হয়ে ওঠে!
পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মহানাগরিক
রাম চক্রবর্তীকেই উদ্ধোধক ঘোষণা করে অনুষ্ঠান শুরু হয়।উপ মহানাগরিক মুন্না আগরওয়াল, রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দফতরের সহকারী যুগ্ম অধিকর্তা, ডাঃ অপরেশ ব্যানার্জী,শ্রমজীবী হাসপাতালের সম্পাদক, গৌতম সরকার,চন্দননগর মিউজিয়ামের অধিকর্তা, বাসবী পাল,চিকিৎসক, ডাঃ কেশব সিংহ রায়, ডাঃ অরুন মুখার্জী ও শান্তনু ঘোষাল-এর সম্মিলিত প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়!রাজ্যের বাইরে থাকায় আই.এম,এর চন্দননগর শাখার সম্পাদক,ডাঃ দেবাশিস দাসের দূরভাষণটি আলোকপর্দার মাধ্যমে দর্শকদের শোনানো হয়।
‘সংবেদ চন্দননগর’ এর কাজকর্ম ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোকচিত্রের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন, সংস্থার সম্পাদক, জয়ন্ত কুমার দে। বিশিষ্ট অতিথিরা সকলেই চক্ষু সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ‘সংবেদ চন্দননগর’কে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তাঁরা সংস্থার পাশে থাকারও আশ্বাস দেন। শ্রমজীবীর সহ সম্পাদক, গৌতম সরকার ভবিষ্যতে চক্ষু ব্যাঙ্ক স্থাপনের উপর বিশেষ জোর দেন।সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দুই সংবেদী বাচিকশিল্পী পিয়ালি চন্দ ও জয়ন্ত কুমার দে।উপস্থিত অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ‘সংবেদ চন্দননগর’-এর সভাপতি রজত চক্রবর্তী।
প্রথম দিনেই নারী পুরুষ মিলিয়ে মোট পঁয়তাল্লিশ জন মরণোত্তর চক্ষুদানের অঙ্গীকার করেন।দাতাদের আগ্রহ ছিল উৎসাহব্যঞ্জক!সংবেদ চন্দননগরের পক্ষ থেকে প্রত্যেককেই অঙ্গীকারের শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে।
‘সংবেদ চন্দননগর’ চায়,সকল চন্দননগরবাসী মরণোত্তর চক্ষুদানের অঙ্গীকার করুক!একটি জরুরি আন্দোলনের নাম হোক মরণোত্তর চক্ষুদান! এ ব্যাপারে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল,ক্লাব,পূজা কমিটি,জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ!
মনে মনে সবাই বলুক-
‘আগুনে পুড়িয়ে নষ্ট না করে/ ব্যাঙ্কে রাখব চোখ/দৃষ্টিহীনকে আলোতে ফেরাব /এটাই শপথ হোক।’